Home কবিতা অন্ধ-কবিতা

অন্ধ-কবিতা

65
0

এত ভয়ানক রাগ আমার আর কোনদিন হয় নি।
দেখা হবার পর সেটাই ছিলো তার প্রথম জন্মদিন। দুইদিন পর আমার।
কথা ছিলো একসাথে দুইজনের জন্মদিনই,একইদিনে পালন করে নেবো। চুয়াল্লিশটা মেসেজ পাঠিয়েছিলাম তাকে টানা।
তার কোন সাড়া শব্দ নেই। প্রতিটা মেসেজের উত্তর একটাই – অমুক দিন বিকেলে ছাদে চলে এসো! এর আগে আর দেখা হবে না।
রেগে আগুন হতাম তার এসব উত্তর পড়ে।

কি উপহার নেবে সে আমার কাছ থেকে তা তো অন্তত জানাবে আমাকে নাকি?
টিউশনির টাকা গুছিয়ে রেখেছি।
বাজেট ফেল হয়ে গেলে তখন!
আগে থেকে জানা থাকলে ধার-ধুর করে হলেও ম্যানেজ করতে হবে না?
এই সামান্য সেন্স না থাকলে হয়?

আমি অবশ্য এত রাখঢাকে যাইনি। উপহারে কি চাই বলেই দিয়েছিলাম!
বলেছিলাম
একটা পয়েন্ট ফাইভ জেলপেন লাগবে আর একটা
ক্যালেন্ডার কাগজের ডায়েরী!

ইচ্ছে ছিলো উপহারটা পেলে ওখানে বসেই তাকে একটা কবিতা লিখে দেবো! খুশী হবে খুব।
আমি জানতাম ! কবিতা’র থেকে প্রিয় তার কাছে আমিও না!
এর উত্তরে সে লিখেছিলো – “আচ্ছা, তুমি যা চাও আমি আনবো! কলম,ডায়েরী সব। শুধু ঐদিনের আগে আর দেখা করতে পারবো না।
মেজাজটা কেমন লাগে!
যাকগে যাক। না আসলে কী? আমার টাকা বেঁচে যাবে। আর কি! লস তো তার!

ছাদে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এসবই ভাবছিলাম।
আর চোয়াল ঝুলিয়ে রেগে রেগে যাচ্ছিলাম।
ঘড়িতে পাঁচটা বাইশ।সন্ধ্যা নামি নামি। এমন দিনে রেগেই থাকবো না ভালো ভালো কথা বলবো―
এমন ভাবতে ভাবতেই সে চলে এলো।
খোদা! এভাবে কী কেউ আসে!
এভাবে পুরোটা বিকেল গায়ে উঠিয়ে নিয়ে কেউ কি আসে?
জ্বলে ছাই ছাই হতে ইচ্ছে করছিলো তাকে দেখে!
চোখ খুলে রেখে তাকে আর দেখতে পারছিলাম না এমনই অবাস্তব ছিলো সে!

কলাপাতা রঙের শাড়ীর পাড় মাদুরে বিছিয়ে দিয়ে
কাজলের কৌটা হাতে দিয়ে বললো –
” এই নাও তোমার শাড়ির পাড়ের ডায়েরী আর এই তোমার কাজল কালির পয়েন্ট ফাইভ জেলপেন।
কি কবি? আমার কবিতা কই! লেখোনা কেন?
জলদি লেখো,জলদি।”

অন্ধ না হয়েও সেদিন লিখেছিলাম একটা অন্ধ-কবিতা।
চোখ বুজে!
খুলিনি আজো!

জামিল হাদী

[ স্টেশন রোড, সিলেট/ ১৯শে ফেব্রুয়ারী, ২০২০]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here