Home কবিতা অভ্রের রোদন – কামারুজ্জামান শানিল

অভ্রের রোদন – কামারুজ্জামান শানিল

102
2

অভ্রের রোদন
কামারুজ্জামান শানিল

কৃষ্ণ জীমূত আচ্ছন্ন করে নীলচে অম্বরখানী,
খিড়কি সম্মুখে দন্ডায়মান বর্ষণ সন্ধানী।
হিমেল পবন প্রবাহমান অবাচী সম্মুখপানে,
গুড়ুম গুড়ুম গর্জন শ্রবণে হারায়ে বিনা তানে।

খিড়কি ছাড়িয়া প্রবেশিনু ক্ষুদ্র সে নিকেতনে,
সুদুরের পানে শূণ্যতা হেরি তিমির আচ্ছাদনে।
বাতায়ন পাড়ে কেদারায় বসি পদ তুলি চৌপায়ায়,
হৃদয় মাঝারে উথাল পাথাল সহস্র ভাবনায়।

বর্ষণবাঞ্চা ছাড়িতে না পারে তমস্র আসমান,
বক্ষখানি চিড়ে মৃত্তিকা পানে দিয়াছে বারি দান।
ভাবুক চিত্তে কবি কবি মনে বুজি দুই লোচন,
ভারী বর্ষণে অভ্র করেছে কতই যাতনা মোচন।

মৃত তটিনীর হারানো লহরী ফিরে পায় তার গতি,
উত্তাল লহরীর স্রোতস্বিনীটা স্বীকার করে না নতি।
বাদলো বেলায় সঙ্গীত সাধনায় খুঁজে পায় অন্তরা,
ধুয়ে মুছে নেয় শত জঞ্জাল, পবিত্র হয় বসুন্ধরা।

তরু সকল প্রান ফিরে পায়, পূর্ণ হয় সরোবর,
ফসলের মাঠে হরিৎ সতজে হয়ে ওঠে উর্বর।
স্বেদ ঝড়ে পড়া উষ্ণতা রোধে নেমেছিল বৃষ্টি,
আসমান চিড়ে বারি পতিত, বিধাতার মহা সৃষ্টি।

জীমূত সলিলে অবনী করে কত শত অর্জন,
অম্বরের সে নীরব যাতনাকে করেছিনু বর্জন।
কোন সে ক্লেশে অনন্ত অশ্রু দিয়াছিল বিসর্জন!
লোহিত শোণিতের উত্তাপ বেড়ে করেছিল গর্জন।

দগ্ধ অলীকের বেদনায় যখনই ম্লান হয় তার মুখ,
জ্ঞাপী সবে “মেঘলা আকাশ”, হৃদয়ে জাগে সুখ।
গহীনে তাহার অনলের ছোয়ায় সৌদামিনীর বিচ্ছুরণ,
হেরি সবে কহি আহা সে কী জ্যোতি, দিয়াছে বিকিরণ!

কোন সে দুখে দিবস-শর্বরী হয়েছিল একাকার!
আদিত্য-শশাঙ্ক হারায়ে আধারে নেমেছিল আষাঢ়।
কোন সে মায়াবিনীর বিরহ বেদনায় কেদেছিল একামনে!
রংধনুটা দর্শিত হয়নি মায়াবিনী কান্তার লোচনে।

১২/০৪/২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কামারুজ্জামান শানিল
পরিসংখ্যান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here