Home প্রজন্ম জুম’আর নিমন্ত্রণ

জুম’আর নিমন্ত্রণ

97
0

জুম শব্দটির অর্থ সমাবেশ বা একত্রিত হওয়া। সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ফজিলত তাৎপর্যযুক্ত একটি দিবস। দিবসের নিমন্ত্রণ গ্রহনও যার ভাগ্যে জুটে না সে তো বড়ই হতভাগ্য। দিনের সবচেয়ে বড় একটি নিয়ামাহ হলো এদিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যে সময়ে কোনো দোয়া করলে তা রাব্বে কারীম কবুল করে নেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পুরো সপ্তাহ জুড়ে চাকরীজিবী বা ছাত্ররা তাদের চাকরী বা প্রাতিষ্ঠানিক পাঠদান নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করে সপ্তাহের এই জুম দিনে প্রায় সকলের ছুটির দিন থাকে। সেই উপলক্ষে সবাই এই জুম দিনের অর্ধেক সময় ঘুমেই কাটিয়ে দেয়। অথচ আল্লাহর রাসূল সাঃ জুম দিনে জামায়াতে সাথে ফজরের সালাত আদায় করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া জুম দিনে সূরাহ কাহাফ তিলাওয়াতের কথাও বলেছেন। কিন্তু ছুটির দিন পেয়ে অনেকের তো ফজর সালাত আদায় করার সুযোগ হয় না ঘুমের কারণে।  অনেক কষ্টে হয়তো জুম দিনের দুই রাকাত সালাতটা পড়তে যাই আর বাকি সময়টা বিশ্রাম বা ঘুরাফেরাতেই কাটিয়ে দেই। অথচ জুম দিনে এমন একটি সময় আছে যে সময়টিতে কোনো দুয়া করলে তা আল্লাহ কবুল করেন। এদিনে রাসূল সাঃ এর উপর বেশি বেশি দূরূদ পাঠ করার কথা বলা হয়েছে হাদীসে। কারণ জুম দিনে দূরূদ পাঠ করা হলে তা রাসূল সাঃ কাছে পেশ করা হয়। আমরা অনেকেই মনে করি দূরূদ পড়া বলতে পুরো দূরূদে ইব্রাহীম পড়া কে বুঝায়, কিন্তু না, শুধু আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ বা শুধু সালল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়লে দূরুদের সাওয়াব পাওয়া যাবে বা দরূদের হক আদায় হয়ে যাবে। (তবে  সালাতে পুরোটাই পড়তে হবে 

কিভাবে জুম সালাত আসলো :-

হিজরতের পরপর প্রথম হিজরীতে রাসূল সাঃ যখন মদিনায় গমন করেন তখন হতেই জুম সালাত আদায় শুরু হয়। তিনি সর্বপ্রথম জুম সালাত আদায় করেন মসজিদে কুবা তে এবং মসজিদে নববীর মধ্যবর্তী এলাকা বনু সালেম ইবনে আওস গোত্রে। বর্তমানে জায়গায় নির্মিত মসজিদটির নামমসজিদে জুমনামে নামকরণ করা হয়েছে।

জুম’আর দিনের করণীয়ঃ- 


জুম’আর দিনে গুরুত্বপূর্ণ পালনীয় সুন্নাত আদব গুলো দেয়া হলোঃ

) জুমআর দিন গোসল করা। যাদের উপর জুম ফরজ তাদের জন্য দিনে গোসল করাকে রাসুল(সাঃ) ওয়াজিব করেছেন। পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসাবে সেদিন নখ চুল কাটা একটি ভাল কাজ।
) জুমআর সালাতের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা।
) মিস্ওয়াক করা।
) উত্তম পোশাক পরিধান করা
) সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। এতে করে এক জুম হতে অন্য জুম পর্যন্ত সময়কে আল্লাহ আলোকিত করে দেন।
) আজানের সাথে সাথে মসজিদে যাওয়া ইমামের সামনা সামনি বসা। তবে কাউকে ডিঙ্গিয়ে সামনে না যাওয়া।
) চুপ থেকে খুৎবা শোনা। কাউকে চুপ করতে বলাও থেকেও বিরত থাকা
) দূরূদ পাঠ করা বেশি বেশি।
) মসজিদে প্রবেশ করেই দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ সালাত আদায় করা। খুৎবা চলাকালীন সময়ে হলেও।
১০। ইমাম সাহেব খুৎবা শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত তাসবীহতাহলিল, কুরআন তিলাওয়াতে রত থাকা। ইত্যাদি

জুম দিনের অনেক ফজিলাত মাহাত্ম্য রয়েছে  আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে তার প্রিয় বান্দারা নিমন্ত্রণে সাড়া না দিয়ে থাকে না।

তথ্যসূত্র:
. ইমাম পোর্টাল
. তাফসির আবু বকর জাকারিয়া

লিখেছেনঃ নিশাতুল ইসলাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here