Home গল্প ধর্ষন || মীরা

ধর্ষন || মীরা

84
0
Man's hand holding a woman hand for rape and sexual abuse concept, Wound domestic violence rape, concept photo of sexual assault, International Women's Day

[et_pb_section fb_built=”1″ _builder_version=”3.22″][et_pb_row _builder_version=”3.25″ background_size=”initial” background_position=”top_left” background_repeat=”repeat”][et_pb_column type=”4_4″ _builder_version=”3.25″ custom_padding=”|||” custom_padding__hover=”|||”][et_pb_text _builder_version=”3.0.74″ background_size=”initial” background_position=”top_left” background_repeat=”repeat”]

সেদিন যখন ছেলেগুলো আমাকে কলেজের সামনে থেকে তুলে নিয়ে গেলো এক জংগলে আমার মুখ বাধা ছিলো আমি জানতে চেয়েছিলাম কেনো আমাকে এখানে তুলে আনা হয়েছে।আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।এরপর ওদের মধ্যে থেকে লাল শার্ট পরা ছেলেটা বলল আমাকে তারা সবাই মিলে ধর্ষণ করবে এরপর আমাকে মেরে ফেলে দেবে।আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।ফেসবুকে গেলেই নিউজে পড়েছি ধর্ষণ আর ধর্ষণ। কি ভয়ংকর ভাবে মেয়ে গুলোকে মেরেছে কি ভয়ংকর এসব নিউজ যখনই চোখের সামনে এসেছে দেখার সাহস হয়নি স্ক্রল করে নিচে চলে গেছি।আজ আমি সেরকম এক পর্যায়ে ভাবতেই আমার হাতপা ঠান্ডা হয়ে আসছে।নিশ্বাস ভারি হয়ে যাচ্ছে।যতগুলো নিউজ দেখেছি ধর্ষণ নিয়ে সেক্ষেত্রে একজন ধর্ষককেও শাস্তি দেওয়া হয়নি।পায়নি কেউ বিচার।আজ আমি মরে যাওয়ার পর এদেরও বিচার হবেনা আমার মা অনেক কষ্ট পাবে। হয়তো পাগল হয়ে যাবে।অনেক আকুতি করেছি কুকুর গুলোকে আমাকে ছেড়ে দাও।বলেছি আমি তোমাদের বোনের মতো আমার সাথে এসব করনা।পায়ে ধরেছি। বলেছি আমাকে মেরনা।আমাকে যেতে দাও আমি কাউকে কখনো বলবোনা তোমাদের কথা আমার সাথে এরকম করোনা।আমাকে প্রানে মেরনা।আমার মা অপেক্ষা করে আছে আমি খিচুড়ি খেতে চেয়েছিলাম মা হয়তো রান্না করে বসে আছে।আমাকে যেতে দাও দয়া করে যেতে দাও।সেদিন শয়তানের দলের আমার প্রতি মায়া হয়নি।ওরা হেসেছে আমি কেদেছি অনেক কেদেছি।আমার কান্নাগুলো ওরা আরো বেশি উপভোগ করেছে।আমি যতো জোরে চিতকার করে কেদেচি ওরা ততো জোরে চিতকার করে হেসেছে।এদের মধ্যে লাল শার্ট পরা ছেলেটাকে আমি চিনি আমার কলেজের একজন সিনিয়র স্টুডেন্ট। খুব ভদ্র এটাই আমি জানতাম কখনো কোনো মেয়ের সাথে কথা বলা দূরে চোখ তুলে তাকাতেও দেখিনি।অথচ সেই মানুষটা এতোটা জঘন্য হতে পারে এটা আমি মানতে পারছিলাম না সেদিন।

আমার উপর ওরা সেদিন হামলে পরেছিলো।অতিরিক্ত ছাটাছাটি করাতে ওড়না দিয়ে আমার হাত বেধে দিয়েছিলো।নিজের হাত মুচড়ে দেওয়ার শব্দ কানে আসছিলো আমার।আমার সাথে সেদিন ওরা কি করেনি।আমি চিতকার করেছি কেউ সেদিন আমার চিতকার শোনেনি। ওই জংগলে কোনো পশুপাখি ছিলোনা সেদিন। আমার আর্তনাদে সেদিন সব পালিয়ে গেছে।আমার পুরো শরীরে চিহ্ন একে দিয়েছিলো সেদিন জানোয়ার গুলো।একপর্যায়ে আমি আর শব্দ করতে পারিনি।বুঝতে পারছিলাম আমি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি। খুব মনে পরছিলো বাবা মা আর আদরের ছোট্ট ভাইটার কথা।আমি যখন প্রায় মরা তখন জানোয়ার গুলো আমার গলা টিপে ধরেছিলো।বুঝতে পারছিলো না আমি বেচে আছি না মরে গেছি।বিশ্বাস করুন আমার মৃত্যুর কষ্ট একটু বুঝতে পারিনি।আমাকে তো দুই ঘন্টা আগেই মেরে ফেলা হয়েছিলো মৃত দেহ থেকে প্রান যেতে কষ্ট আর কি হতে পারে।আমার পা মুচরে দিয়েছে হাত ভেঙে দিয়েছে বুঝতে পেরেছে এক পর্যায়ে আমি মারা গেছি।আমাকে ফেলে চলে গেছে।

২দিন পর আমার দেহ খুজে পায় পুলিশ। সেদিন আমার মায়ের চিতকারে আমি কেদেছিলাম।আমার মা আমার ওড়নার ছেড়া টুকরো বুকে নিয়ে চিতকার করেছে।বলেছে এটা আমার সোনামনির। কেউ তাকে থামাতে পারেনি।আমিও হাজার চেষ্টা করেছি পারিনি।চিতকার করে কেদেছি কেউ শোনেনি।আমার চোট্ট ভাইটা নিজের বোনকে দেখার সাহস করেনি পর্যন্ত দূর থেকে চিতকার করে কেদেছে আপুরে তুমি ফিরে আসো আর তোমার সাথে মারামারি করবো না।চাইবোনা তোমার কাছে কিছু।আপু তুমি আমাকে একটিবার এসে জড়িয়ে ধরো।যে বাবা আমার শত আঘাতে বিচলিত হয়নি তাকে হাউমাউ করে কাদতে দেখেছি।বলতে দেখেছি এটা আমার মেয়েনা আপনারা ভালো করে খুজে দেখুন।আমার মেয়ে সাদা ফুরফুরে ছিলো এ তো লাল এটা আমার মেয়ে হতে পারেনা।বলতে শুনেছি মারে তোর হতভাগা বাবাবে ক্ষমা করিস।কাছ থেকে বাবাকে শান্তনা দিতে পারিনি।সেদিন এমন কোনো মানুষ দেখিনি আমি যার চোখে পানি দেখিনি।

আশ্চর্য হয়েছি আমাকে যারা ধর্ষণ করলো তারাও আমার জানাজায় শরিক হলো।আমি চিতকার করেছি অনেক চিতকার করেছি সবাইকে ডেকেডেকে বলেছি এইযে সেই পশু যাদের জন্য তোমারা তোমাদের মেয়েকে হারিয়েছো কেউ শোনেনি আমার কথা সেদিন।জানোয়ার গুলো দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে হয়তো নতুন কোনো শিকার এর সন্ধানে।

[/et_pb_text][/et_pb_column][/et_pb_row][/et_pb_section]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here