Home প্রজন্ম পাপাচার থেকে মুক্ত হতে বিয়ে করুন (পর্ব-১)

পাপাচার থেকে মুক্ত হতে বিয়ে করুন (পর্ব-১)

195
0

তাসনিম সুলতানা মনিঃ

ইসলাম শান্তির ধর্ম। তাই ইসলামে বৈরাগ্য বাদের কোনো স্থান নেই। মহান আল্লাহ অসংখ্য জীব সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে আশরাফুল মাখলুখাত অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে অফুরন্ত নেয়ামতরাজি দিয়েছেন। তন্মধ্যে নারী পুরুষের দাম্পত্য জীবন এক অনন্য নেয়ামত। আর তা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অর্জন করা সম্ভব। কোনো ধরনের সন্দেহ ব্যতীত বলা যায়, বিবাহের মাধ্যমে যেভাবে দাম্পত্য জীবনে পরিবর্তন আসে তেমনি ভাবে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন “স্ত্রীদের মধ্যে হতে তোমাদের পছন্দ মতো বিবাহ করো”। হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্নিত। রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন, “বান্দা যখন বিবাহ করল তখন সে তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ন করল। আর অর্ধেক অর্জনের জন্য সে যেন খোদাভীতি অবলম্বন করে।”

এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দৈনন্দিন জীবনে সামাজিক, শান্তি, ও পবিত্র জীবন যাপনের একমাত্র মাধ্যম বিবাহ। বিবাহ মানব জীবনে পূর্ণতা আনে। সুতরাং শরীয়ত নির্ধারিত পন্থায় বিবাহ কার্য সম্পাদন করা প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর একান্ত কর্তব্য।

নারী পুরুষের পারস্পরিক আকর্ষণ ও জৈবিক চাহিদা পূরনের মনোবৃত্তি সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য। আর এই চাহিদা পূরনের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হলো বিবাহ। আসুন আমরা বিবাহ সম্পর্কে কিছু জানি।

বিয়ে কী?
বাংলায় যাকে আমরা বিয়ে বলি আরবীতে তাকে নিকাহ বলা হয়। আর আভিধানিক অর্থ বিয়ে দেওয়া, বন্ধন, বিবাহ করা,চুক্তি, রূপক অর্থ সহবাস,ইত্যাদি। আর ইংরেজিতে বিবাহকে বলা হয়, Relationship, Marriage।

বিবাহের পারিভাষিক অর্থ হলো, শরহে বেকায়াহ গ্রন্থাকারের ভাষায় “যৌন জীবন উপভোগ করার উদ্দেশ্য নারী পুরুষের মাঝে প্রতিষ্ঠিত বন্ধন। অর্থাৎ নারী হতে পুরুষ কর্তৃক স্বাদ উপভোগ বৈধ হওয়ার বন্ধনই হলো বিবাহ।”

কেউ কেউ বলেন, “বিবাহ হলো স্বামী স্ত্রীর মধ্যে এমন বন্ধন, যার দ্বারা পরস্পর সঙ্গম হালাল হয়।” সংক্ষেপে বলা যায়, “বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াই নিকাহ”।

শরীয়তে বিয়ের বিধান কী?
এমন যদি হয় যে বিবাহ না করলে যেনায় লিপ্ত হওয়ার আশংঙ্খা থাকে এবং বিবাহের সামর্থ্য ও থাকে তাহলে বিবাহ করা ফরজ। আর সামর্থ্য না থাকলে রোযা রাখতে হবে। তীব্র যৌন উত্তেজনার সময়ে বিবাহ করা ওয়াজিব। স্বাভাবিক অবস্থায় বিবাহ করা সুন্নত। কামভাবের ক্ষমতা না থাকলে বিবাহ করা হারাম। দাম্পত্য সম্পর্কীয় দায়িত্ব যথাযথ পালনে যদি ক্ষীন সম্ভাবনা থাকে, তবে বিবাহ করা মুবাহ।

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here