Home সম্পাদকীয় একটি বহিষ্কারাদেশ এবং কিছু কথা

একটি বহিষ্কারাদেশ এবং কিছু কথা

111
0

সর্বোচ্চ শাস্তি এবং অপরাধপ্রবনতা এই দুই এর মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্ক আসলে নেই। চোখের বদলে চোখ, খুনকা বাদলা খুন, এইযে এক এক করে দেওয়া, তুমি এক গোল দিয়েছো আমি এক গোল দিবো, তুমি আমার ছেলেকে মেরেছো আমি তোমার ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে তার শোধ নিবো এই প্রতিশোধের খেলাটার একটা ঝামেলা হচ্ছে এই এক-এক খেলাতে এটা কোনোদিন থেমে থাকে না। যদি প্রতিশোধের খেলায় ঢুকে পড়েন একবার, তবে আপনি জয়ী হোন আর পরাজিত হোন আপনার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না।
মনে রাখতে হবে, শাস্তি দিতে গিয়ে অপরপক্ষের প্রতিশোধপ্রবনতাকে মূলত আরও উষ্কে দেওয়া হয় এবং পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি পরবর্তী প্রতিশোধের মাত্রা কিন্তু আরও তীব্র হয়
হ্যা, যাদের কাছের মানুষ আঘাত পাচ্ছেন, টর্চারের শিকার হচ্ছেন তাদের প্রতি প্রশাসনের সিম্প্যাথি থাকবে। তাদের আবেগকে সম্মান করতে হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, অভিভাবকদের হয়ে প্রশাসন প্রতিশোধ নিতে নেমে পড়বে। প্রশাসনের কাজ সেটা নয়। প্রশাসনের কাজ এই নয় যে, মানুষ যখন ফেইসবুকে স্টেটাস দিয়ে বলছে চোরকে মার, রেপিস্টকে মার, ইন্ডিয়াকে মার তখন প্রশাসন সেটা শুনেই মেরে দিবে। প্রশাসন কোনো হিট সিনেমা করতে আসেনি যে আমজনতা একশন সিরিজ চাইছে বলে একশন সিরিজ ঢুকিয়ে দিবে।
প্রশাসনের কাজ একটি শ্রেয় নৈতিক অবস্থান গ্রহন করা। সে যদি মনে করে, একজন ছাত্রের সবচেয়ে বড় অধিকার হচ্ছে সুষ্ঠুভাবে পড়াশোনার অধিকার তাহলে তাকে কখনোই বহিষ্কারাদেশ পাঠাতে পারে না
হ্যা, এখানে কথা উঠতে পারে – যে অপরাধী সে তো এই অধিকারটাকে সম্মান করে নি, অপরাধী তো তার সুষ্ঠু পড়ালেখার করার অধিকার ভায়োলেট করেছে। এক্সাক্টলি! এইজন্য তো সে অপরাধী! আর প্রশাসন কখনও একজন অপরাধীকে নকল করতে পারে না। একজন ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে না
একটা সত্যি কথা কি, এখানে যে ভিক্টিম সে কিন্তু এই সিচুয়েশন এর মধ্য দিয়ে যায় নি! তাই আপনারা প্রশাসন কখনই সমান শাস্তি দিচ্ছেন না। বরং বেশি শাস্তি দিচ্ছেন। আপনারা সংশোধনের চেষ্টা করছেন না। আপনারা বুঝছেন না যে, একটা মানুষের সংশোধিত হওয়ার সম্ভাবনাকে মেরে দিয়ে, কোনো রকম সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে তাকে বহিষ্কার করে দেওয়া যায় না।
সবচেয়ে বড় কথা, এ শাস্তি সম্পর্কে প্রশাসনের কোনো ধারনা নেই। প্রশাসন কি জানে বহিষ্কারের পর এক ছাত্রের ভবিষ্যৎ কি পরিমান অনিশ্চিত হয়ে পড়ে? জানে না! তাহলে যে শাস্তি সম্পর্কে প্রশাসনের বিন্দুমাত্র ধারনা নেই, সেই শাস্তি কিভাবে প্রশাসন একজন ছাত্রকে দিতে পারে?
আমি বলছি না, যে কারও উপর অমানবিক টর্চার করা নৃশংসতা নয়! হ্যা এটা নৃশংসতা! তার শাস্তিও নিশ্চয়ই দিতে হবে! কিন্তু শাস্তি দেওয়া মানে তাকে বহিষ্কার করে দেওয়া নয়! তাহলে তো তারই স্তরে নেমে যাওয়া হবে।
একটা কাজ করুন! প্রতিশোধপরায়নতা ছেড়ে দিয়ে একটা অধমতার কাউন্টার এটাক হিসেবে একটা উত্তমতা দিন। দিয়েই দেখুন না! সাধারন মানুষের যে সাধারন প্রতিক্রিয়া যে “প্রতিশোধ নাও!” – সেটাকে অতিক্রম করে প্রশাসনের উচিৎ মানুষকে শিখানো যে কিভাবে প্রতিশোধপরায়নতা বাদ দিতে হবে। কারন, মনে রাখতে হবে আপনারা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর প্রশাসন। তবে আপনারা বলবেন, ঐ মানুষগুলোর কি শাস্তি হবে নাহ? নিশ্চয়ই শাস্তি হবে কিন্তু সেটা তাকে বহিষ্কার করে নয়, হবে হোক অন্য কোনো ভাবে। শাস্তির তো অভাব নেই। তবে অবশ্যই অবশ্যই একাডেমিক কার্যক্রম বিনষ্ট করে নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here