Home প্রবন্ধ টেলিপ্যাথি কী এবং কীভাবে!

টেলিপ্যাথি কী এবং কীভাবে!

79
0

টেলিপ্যাথি, অতীন্দ্রিয় উপলব্ধি বা Extrasensory perception বলতে মনের বিশেষ ক্ষমতার মধ্যে দিয়ে তথ্য সংগ্রহকে বুঝানো হয়। এখানে শারীরিক কার্য্যকলাপের তেমন কোনো ভুমিকা নেই। অতীন্দ্রিয় উপলব্ধির আরেক নাম ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বা sixth sense ।
টেলিপ্যাথি শব্দটা এসেছে গ্রীক শব্দ টেলি এবং প্যাথিয়া থেকে । টেলি শব্দের অর্থ দূরবর্তী এবং প্যাথিয়া শব্দের অর্থ অনুভূতি । তারমানে টেলিপ্যাথি হলো দূরবর্তী অনুভূতি । এই দূরবর্তী অনুভূতি বা টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ প্যারা সাইকোলজীর একটা অংশবিশেষ। এটা সাইকোলজির একটা শাখা যা মানুষের অদ্ভুতুড়ে কান্ড কারখানা বা ক্ষমতা নিয়ে রচিত।
প্যারা সাইকোলজিতে যদিও অলৌকিক ঘটনা বা ক্ষমতা নিয়ে কাজ করা হয় তবে সেটা হয় পুরোপুরি বিজ্ঞানসম্মতভাবেই। টেলিপ্যাথি বা প্রি-রিকোগনিশান অর্থাৎ আগে থেকেই কোন কিছু ধারণা করে নেওয়া বা ভবিষ্যত দেখতে পাওয়া। টেলিকিনসিস বা সাইকোকিনসিস বা কোন ধরণের শারীরিক সংশ্লিষ্ঠতা ছাড়াই কোন জিনিস নাড়াতে পারা, সাইকোমেট্রি বা কোন বস্তুকে স্পর্শ করে সেটা সম্পর্কে সব বলতে পারা, মৃত্যু স্পর্শ বা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা, বাইলোকেশান অর্থাৎ একই সময় দুই জায়গাই অবস্থান করা। ও মাই গড!! এসব শুনলে মাথা ঘুরে যায় আমার!!!

সত্যি কি টেলিপ্যাথি বলে কিছু আছে এ দুনিয়ায়?
আমাদের সবার জীবনের কোন না কোন ক্ষেত্রে টেলিপ্যাথি নেই এমনটা ভাবা যায়না। যেমন হয়তো কখনও হয়তো আপনি কাউকে অনেক অনেক মিস করছেন তখন হটাতি সে আপনাকে কল করে বসলো। বা আপনার খুব খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো বিরিয়ানি খেতে অমনি সেদিনই রাতে বা কিছুদিন পর দেখলেন আপনার মা বিরিয়ানি রান্না করেছেন।
এসব আমরা খুব সহজেই কাকতালীয় ঘটনা বলে ফেলতে পারি কিন্তু আমরা জানিইনা যে এটা আমাদের মস্তিষ্কের এক অতীন্দ্রিয় সংবেদনশীলতা যেখানে আমাদের অবাধ প্রবেশাধিকার নেই।

টেলিপ্যাথি ৩ রকমের হয় । যেমন –
১। ফিজিক্যাল টেলিপ্যাথি,
২। ইমোশনাল টেলিপ্যাথি এবং
৩। মেন্টাল টেলিপ্যাথি ।

এখানে আজকে শুধু মেন্টাল টেলিপ্যাথি নিয়ে কিছু তথ্য বলব।

মেন্টাল টেলিপ্যাথিঃ
কোন কথা-বার্তা, ইশারা ইঙ্গিত বা দেখা সাক্ষাৎ ছাড়াই দূরবর্তী দু’জন মানুষের যোগাযোগ করার ক্ষমতা । দূরত্ব এক রুম থেকে অন্য রুমের হতে পারে আবার পৃথিবীর একপ্রান্ত হতে অপর প্রান্তেও হতে পারে । অনেকেই মেন্টাল টেলিপ্যাথির অস্তিত্বে বিশ্বাস না ও করতে পারে। কিন্তু বাস্তবেও এমনটা করা যায়। তার জন্য প্রয়োজন অনেক সাধনার। আর এর একটা সহজ উদাহরন হলোঃ কোনো মেয়ে যখন প্রথমবার “মা” হয়, সে কিন্তু নতুন শিশুকে বেসিদিন যাবত চিনেওনা তারপরো সেই বাচ্চার যে কোনো কান্নার কারন মা ঠিকি ধরতে পারে। এখন খুদা লাগছে তাই কাদছে, বা পেটে বেথা, বা শরীর খারাপ, বা মাথা বেথা। এটা মা ঠিকি বুঝে যায়।
যাইহোক গবেষকরা অপরিচিত মানুষের মধ্যে পরীক্ষা করে যে ফলাফল পেয়েছেন তার থেকে অধিক বেশি শক্তিশালী ফলাফল ছিল আত্মীয় কিংবা রক্ত সম্পর্কীয় ২জন মানুষের মধ্যেকার টেলিপ্যাথিতে ।

কিভাবে করে এই মেন্টাল টেলিপ্যাথি?
মেন্টাল টেলিপ্যাথি দু’রকমের । একটাতে দু’জন মানুষের দূরত্ব থাকে পৃথিবী ব্যাপি । কেউ কাউকে না দেখেই এবং কথা না বলেই তথ্য পাঠাবে । আরেকটাতে দু’জন মানুষ দু’জন কে দেখবে কিন্তু কোন কথা না বলে শুধু মাত্র যুক্তি সংগত চিন্তা করে তথ্য পাঠাবে । এভাবে যোগাযোগের যত বেশী চেষ্টা মানে প্র্যাকটিস করা হবে তত বেশি এই যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে । প্রথমেই এমন কাউকে নিতে হবে যাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা হয় এবং যে এই ব্যাপারে আগ্রহী । দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে মন খুলে অন্যজনের কাছে তথ্য পাঠানোর জন্য বসতে হবে । একজন কে সেন্ডার হতে হবে অন্যজন কে রিসিভার হতে হবে । প্রথমে ছোট ছোট ব্যাপার শেয়ার করতে হবে – যেমন কোন নাম কিংবা রং । পরে যত বেশী পারফেক্ট টেলিপ্যাথার হতে থাকবে তত তথ্য গুলো ও বড় হতে থাকবে ।
স্যার রিচার্ড বার্টন, ডিউক ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী জে. বি. রাইন বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ক্ষমতাকে ব্যাখ্যা করার জন্য অতীন্দ্রিয় উপলব্ধিকে ব্যবহার করেন। বিজ্ঞানীরা সাধারণত অতীন্দ্রিয় উপলব্ধিকে অগ্রাহ্য করেন, কারণ এক্ষেত্রে কোন সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য নেই। এছাড়া পরীক্ষামূলক পদ্ধতি না থাকায় এ পদ্ধতির কোন সুস্পষ্ট নির্ভরযোগ্যতা পাওয়া যায়না।
ইতিহাস বলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেরও আগে অন্যদের মনোজগতে ভ্রমন করতে পারে এমন লোকদের নিয়ে কিছু পরীক্ষা চালিয়েছিল দ্যা গ্রেট সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকা এবং ব্রিটেন আর তার ফলাফলও ছিল মজার। সে সময় টেলিপ্যাথি মিলেটারি ইন্টিলিজেন্সে একটি বিশেষ আসন করে নিয়েছিল এবং এর ধারকদের বলা হত ‘সাই এজেন্ট। এখন অবশ্য টেলিপ্যাথিকে বিজ্ঞানীরা রিমোট সেন্সিং বলে থাকেন। এজেন্টরা তাদের মনটাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং বস্তু সম্পর্কে তথ্য দিতেন।
তবে জানা যায়, বিশ্বের উন্নত সব দেশে গোপনে এসব বিষয় নিয়ে বিশেষ গবেষনা, পরিক্ষা নিরিক্ষা চলছে, ট্রেইনিং চলসে। কে যানে? হয়তো তারা এসবে পারদর্শী হয়ে গেলো, তারাও আমাদের অজান্তেই আমাদের কে নিয়ন্ত্রন করে যেভাবে খুশি যা ইচ্ছা করবে। যেমনটা X-Man মুভিএর চার্লস করে থাকে। যদিও সে সবার ভালো করে কিন্তু বাস্তবে যারা এসব চর্চা করছে তারা পৃথীবির মানুষদের তাদের মন মত পরিচালনার জন্যই করছে।

(সংগৃহীত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here