Home প্রবন্ধ ওয়াটার ক্রাইসিস

ওয়াটার ক্রাইসিস

96
0

ইংরেজি তে একটা প্রবাদ আছে, “ Thousands have lived without love, not one without water”৷

২০১৯ সালে এসে আমরা একটু একটু করে পানির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছি।পানির জন্য মারামারি,খুন, রাহাজানি এসব খবরে আর এখন অবাক হইনা আমরা। গা সওয়া হয়ে গেছে।lসাম্প্রতিক সময়ে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের পানির সংকট এর দিকে তাকালেই এই কথার সত্যতা পাওয়া যাবে। ছোটবেলা থেকে শুনছি পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু এই জীবন আজ অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। আমরা আজ যে পানি পান করি তা আজ থেকে শত মিলিয়ন বছর আগেও ছিল যখন ডায়নাসর রা পৃথীবিতে ঘুরে বেড়াত। তখন থেকে আজ পর্যন্ত পানির পরিমান একই আছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে পানির সংকট আজ মহামারী আকার ধারন করেছে।

পৃথীবির ৭০% অঞ্ছল পানি দিয়ে ঢাকা। তার মধ্যে মাত্র ২.৫% হলো বিশুদ্ধ পানি। এই বিশুদ্ধ পানির ১% হলো সহজে পাওয়া যায়। এই ১% পানিই পৃথীবিতে শত শত বছর ধরে বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের পানির যোগান দিয়ে গেছে। কিন্তু মানুষের পানির যথেছ ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণসহ নানবিধ কারনে পানির অভাব পৃথিবীজুড়ে প্রস্ফুটিত হচ্ছ।

চলুন একটু পরিসংখ্যানে চোখ বুলিয়ে নিই।

UN এর মতে ২০২৫ সালের মধ্যে পৃথীবিতে ১.৮ বিলিয়ন মানুষ সুপেয় পানির সংকট প্রবল এমন এলাকায় বসবাস করবে অর্থাৎ প্রচুর পরিমান এলাকা পানিবিহীন হয়ে যাবে।

WHO  এর গবেষনা অনুযায়ী গত কয়েক দশকে পানির ব্যাবহার বেড়েছে ৬ গুন যদিও জনসংখ্যা বেড়েছে মাত্র ২ গুন।  পৃথীবিতে ১ বিলিয়ন মানুষ সুপেয় পানির অভাবে ভুগছে। অধিকন্তু ২.৬ বিলিয়ন মানষ বঞ্ছিত হচ্ছে সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যাবস্থা হতে। পানির অভাব, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন , দূষিত পানি পান করার কারনে প্রতিবছর ১.৭ বিলিয়ন মানুষ মারা যাচ্ছে।

আরেকটি গবেষনায় দেখা গেছে ২০২০ সালের মধ্যে ভারতের ২১ টি শহরের ভূগর্ভস্থ পানি শেষ হয়ে যাবে যার ফলে ১০০ মিলিয়ন লোক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এমনকি ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের ৪০% লোক সুপেয় পানি পাবে না।তার একটি বড় প্রমাণ হলো এই ব্ছর ভারতের চেন্নাই এর সবচেয়ে বর লেক Chembarambakkam Lake শুকিয়ে গিয়ে ভয়াবহ পানির সংকট তৈরি করেছে।

যেহেতু পৃথিবীতে পানির পরমান নির্দিষ্ট,সেক্ষেত্রে পানির সঠিক এবং যথাযথ ব্যবহারই পারে ভবিষ্যতের পানির মহামারী কে প্রতিহত করতে। সেক্ষেতে পানির পুনর্ব্যবহার হতে পারে একটি সঠিক এবং কার্যকর সমাধান। পানির যথেচ্ছ ব্যবহার , পানি দূষণ রোধ করা এখন একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে পানির পুনর্ব্যাবহার একটি  জনপ্রিয় কনসেপ্ট।যেখানে পানিকে কয়েকটি ভাগ করা হয়,

১) Black water: যে পানি মানুষের মলমূত্রের সাথে মিশে তাকে বলা হয় ব্লাক ওয়াটার।এতে রোগ সৃষ্টিকারী অনেক ব্যাকটেরিয়া ,ভাইরাস, অণুজীব থাকে। এই পানিকে বিশুদ্ধকরনের মাধ্যমে ব্যাবহার উপযোগী করা হয়।

২) White water: আমাদের বাসাবাড়িতে যে পানি ব্যাবহার করি তাকে বলা হয়  White Water. এ পানি হলো বৃষ্টির পানি, লেকের পানি। এ পানি পুরোপুরি বিশুদ্ধ অথবা একে হাল্কা ফুটালে পান করা যায়।

৩) Grey water: যে পানি ইতোমধ্যে কোন কাজে ব্যাবহার করা হয়ে গিয়েছে এবং এতে অনেক কেমিকেল এবং জৈব পদার্থ থাকে তাকে   Grey water বলা হয়।যেমন গোসল করার পর সাবানযুক্ত পানি,থালা বাসন ধোয়ার পরের পানি ইত্যাদি।

 

এই তিন প্রকার পানির মধ্যে  Grey Water  কে পুনর্ব্যাবহার করা হচ্ছে সারা পৃথিবীতে কারন এ পানি খাবার উপযোগী না হলেও গৃহস্থালীর অন্যান্য কাজ যেমন টয়লেট এর ফ্ল্যাশ এ ব্যাবহার করা যায়। আমাদের ও এই দিকে যেতে হবে।

আমাদের দেশের ভুগর্ভস্থ পানির অবস্থাও শোচনীয়। গবেষনায় দেখা গেছে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির গড় গভিরতা ১ মিটার নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে ৫০-৭০ ফুট নিচে কোন পানি পাওয়া যায়না ,তাই পানি তোলা হচ্ছে ৬০০-৮০০ ফুট নিচ থেকে।

 

পানির সাথে আমাদের স্বাস্থ্য,পৃথিবী, বাস্তুসংস্থান সর্বোপরী আমাদের  অস্তিত্ব জড়িত। আমাদের এখনি সতর্ক হতে হবে নাহয় নিকট ভবিষ্যতে আমাদের জন্য চরম পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

water.org এর মতে বাংলাদেশে প্রতি সাতজনে ১ জন সুপেয় পানি বঞ্ছিত রবং বর্তমানে ৮৫ মিলিয়ন মানুষের যথাযথ পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যাবস্থা নেই। এই সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য সরকার এবং জনগনের উভয়ের সচেতনতা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবী।

লিখেছেনঃ মোঃ সাহাব উদ্দিন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here